বিভীষণ

ছোট গল্প (Short Story) বর্ষ ৪, সংখ্যা ১ (২০২৪) — তৃষ্ণাতুর 🆔 V04-I01-STO-031 📥 ডাউনলোড করুন প্রিন্ট PDF

বিভীষণ

✍️
কাজী ফারজানা আতিকা
প্রকাশের তারিখ: January 1, 2024
⏳ আনুমানিক পাঠ সময়: 3 মিনিট
(প্রায় 365 শব্দ)

প্রচণ্ড বর্ষণের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল শ্রাবণের। বর্ষণটা শ্রাবণ ধারার নয়, বরং গুলির! এখনো এই আওয়াজটায় কেনো যেনো অভ্যস্ত হতে পারেনি সে। লে. কমান্ডার শ্রাবণ মাহমুদ। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর যুদ্ধ পরিকল্পনাকারী দলের একজন সদস্য। বয়স বেশি না।খুব অল্প সময়েই সকলের বিশ্বস্ততা অর্জন করেছে সে।
আড়মোড়া ভেঙে বুটটা পড়ে বাইরে বের হলো শ্রাবণ। মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা আক্রমণ করেছে। তা দমাতে ব্যস্ত পাক সেনারা। “দমে যাবে ছেলেরা” বলেই হনহন করে গিয়ে ঢুকে পরল তাদের পরিকল্পনার জন্য বরাদ্দকৃত ঘরটায়। সবার মুখ থমথমে! সেই সময়েই হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো এক সৈনিক। পিছু হটেছে মুক্তিবাহিনী। তবে ধরতে পারেনি কাউকে। মনে হলো যেন ভবিষ্যতবাণী করেছিল শ্রাবণ!
শুরু হলো নতুন পরিকল্পনা। যে করেই হোক ধ্বংস করতে হবে এদের আস্তানা। ভয় ঢুকে গেছে মনে। সরাসরি তাদের ক্যাম্পেই হামলা হলো আজ! এমনেই বর্ষার শুরু থেকেই মুক্তিবাহিনীর দাপট বেড়েছে। যেখানে সেখানে জীপ উড়িয়ে দিচ্ছে। হামলা করছে যখন তখন। অথচ তারা কিছুই করতে পারছে না। তিনদিন আগে অস্ত্রসহ সাহায্য এসেছিল বেসক্যাম্প থেকে। কিন্তু সেটাও ধ্বংস করে দিল পুরো ব্রিজসহ। সাহায্য পাওয়ার রাস্তাও বন্ধ সেই থেকে। একরকম কোণঠাসা হয়ে পড়েছে তারা। “এতো তাড়াতাড়ি খবর পায় কিভাবে মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা?”
সেদিন প্রশ্নটা করেছিল শ্রাবণ এই ঘরেই। বোম ফাটার মতো চমকে উঠেছিল সবাই। সেই থেকে সবার মনেই সবাইকে নিয়ে সন্দেহ। আজ তার রেশ ভালোভাবেই লক্ষনীয়। সবাই কথা বলছে মেপে মেপে। সারাদিন অস্থিরতায় কেটে গেল তাদের। গভীর রাত। সকলেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এমনকি পাহারাতেও নেই কেউ আজ। শুধু নিজ ঘরে পায়চারি করছে শ্রাবণ মাহমুদ। খাকি উর্দি পোশাক গুলো ব্যাগে নিয়ে তৈরি সে। অপেক্ষা করছে কারো!
১২ দিন পর। কুমিল্লা সেনানিবাস। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বেসক্যাম্প।
মেজর আজিজ আহমেদ এর সামনে বসে আছে চাঁদপুর ক্যাম্পের লেঃ কমান্ডার শ্রাবণ মাহমুদ। সেই রাতে ক্যাম্পটা মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে যায়। সবাইকে হত্যা করা হয়। বেঁচে যায় শুধু শ্রাবণ আর তার কিছু সঙ্গী। তারা খবর পেয়েছিল পাশের গ্রামে নাকি মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা এসেছিল। অনুসন্ধান করেও কিছু না পেয়ে ফিরে আসছিল তারা। ক্যাম্পের কাছাকাছি আসতেই দেখতে পায় আগুনের ধোঁয়া উড়ছে। তারপরও তারা চেষ্টা করেছিল ক্যাম্পে পৌঁছানোর। তবে মুক্তিবাহিনী ঘিরে রেখেছিল। তাই তারা কোনোরকমে পালিয়ে এসেছে। এখন তাদেরকে যশোর ক্যাম্পে বদলি করে পাঠানো হবে।
নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য মিলিটারি জীপে উঠে বসেছে খাকি উর্দি পোশাকে লেঃ কমান্ডার শ্রাবণ মাহমুদ, সৈনিক মনোয়ার হোসেন (মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জু), সৈনিক আলতাব আলী (মুক্তিযোদ্ধা সাজু), সৈনিক গোলাম মোস্তফা (মুক্তিযোদ্ধা সুলতান), সৈনিক সেলিম খান (মুক্তিযোদ্ধা বুলু), সৈনিক তোফাজ্জল ইসলাম (মুক্তিযোদ্ধা রশিদ)!

❦ ❦ ❦
ক

কাজী ফারজানা আতিকা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ

🌱 নির্মল বাংলাদেশ • তৃষ্ণাতুর সাহিত্য প্রকাশনা উদ্যোগ
Scroll to Top